Home Blog Page 3

এমপি ফাতেমা নাজমার সব অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা মুক্তিযোদ্ধাদের

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংরক্ষিত নারীর আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলি আজাদের সব অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সরাইল উপজেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা। মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য হিসেবে এমপি যার নাম প্রস্তাব করেছেন তিনি মুক্তিযোদ্ধা নন- এমন দাবি তুলে মুক্তিযোদ্ধারা এ ঘোষণা দেন। তবে এমপির দাবি- উপজেলার সব মুক্তিযোদ্ধা নন, কতিপয় মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে তার স্বামীর কতিপয় খুনিও ছিলেন।

শনিবার দুপুরে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নবাগত ইউএনও আরিফুল হক মৃদুলের সঙ্গে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় মুক্তিযোদ্ধারা এ ঘোষণা দেন। একই সভা থেকে নতুন করে আবারও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার বিরোধিতাও করেছেন তারা।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইসমত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক উপপরিচালক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মোতালেব, সরাইল থানার ওসি এ.এম.এম. নাজমুল আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট আবদুর রাশেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন, যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল খাঁ, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মাহফুজ আলী প্রমুখ।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, নানা কলাকৌশলে অনেক অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তারাই আজ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাচাই-বাছাই কমিটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক ও অবমাননাকর। আমাদের শেষ বেলায় যাচাই-বাছাইয়ের নামে চিন্তায় ফেলেছে। রাজাকারের উত্তরসূরিরা আজ সরকারের ভেতরে কৌশলে প্রবেশ করছে। এরাই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে। ‘৭১-এ বুকে বুলেট নিয়েছি। পরাজিত হইনি। এখনও রাজাকারের কাছে পরাজিত হবো না।

মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, সংসদ সদস্য সরাইলে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য হিসেবে যার নাম প্রস্তাব করেছেন তিনি একজন অমুক্তিযোদ্ধা এবং তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি তাহের উদ্দিন ঠাকুরের আত্মীয়। তিনি কয়েক দিন আগে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আমরা তাকে মেনে নিতে পারি না। তারা আরও বলেন, সরাইলের এক অনুষ্ঠানে এমপি কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে উত্তরীয় পরাননি। অথচ সম্প্রতি আশুগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমিরকে সংবর্ধনা দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলি আজাদ বলেন, ওই সভায় সরাইলে সব বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না। কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন, যারা আমার স্বামীর খুনের সঙ্গে জড়িত।

মহান বিজয় দিবস: বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী

0

আজ ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের এক অবিস্মরণীয় দিবস এদিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশসহ পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখন্ডের নাম জানান দেয়ার দিন।

১৯৭১ সালের এদিনে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শেকল ভেঙ্গে প্রথম স্বাধীনতার স্বাদ গ্রহণ করে। ২৪ বছরের নাগ পাশ ছিন্ন করে জাতির ভাগ্যাকাশে দেখা দেয় এক নতুন সূর্যোদয়। প্রভাত সূর্যের রক্তাভা ছড়িয়ে পড়ে বাংলাদেশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে। সমস্বরে একটি ধ্বনি যেন নতুন বার্তা ছড়িয়ে দেয় ‘জয়বাংলা’ বাংলার জয়, পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে, রক্ত লাল, রক্ত লাল, রক্ত লাল।

যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান বিজয় দিবস-২০২০ উদযাপনের লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে কোভিড -১৯ প্রাদুর্ভাবের কারণে এ বছর বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। এরপর মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীর নেতৃত্বে উপস্থিত বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

দিনটি সরকারি ছুটির দিন। সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাসমূহ আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন শহরের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ সমূহ জাতীয় পতাকা ও অন্যান্য পতাকায় সজ্জিত করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী বাণী প্রদান করেছেন। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে এদিন সংবাদপত্র সমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে ইলেকট্রনিক মিডিয়াসমূহ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করবে। এছাড়াও বিজয় দিবস উপলক্ষে ভার্চুয়ালি ‘জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় সমৃদ্ধি অর্জন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

মহামুক্তির আনন্দ ঘোর এই দিনে এক নতুন উল্লাস জাতিকে প্রাণ সঞ্চার করে সজিবতা এনে দেয়। যুগ যুগ ধরে শোষিত বঞ্চিত বাঙালি চোখে আনন্দ অশ্রু আর ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় সামনে। বিন্দু বিন্দু স্বপ্নের অবশেষে মিলিত হয় জীবনের মোহনায়। বিশ্ব কবির সোনার বাংলা, নজরুলের বাংলাদেশ, জীবনানন্দের রূপসী বাংলা, রূপের তাহার নেইকো শেষ, বাংলাদেশ আমার বাংলাদেশ। বাঙালি যেন খুঁজে পায় তার আপন সত্তাকে।

আদি বাঙালির সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক জীবন এবং ক্রমবিকাশের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে বাঙালির শীর্য-বীর্য যেন আর একবার ধপ করে জ্বলে উঠে। প্রথম আগুন জ্বলে ৫২-এর একুশে ফেব্রুয়ারি। ফাগুণের আগুনে ভাষা আন্দোলনের দাবি আর উন্মাতাল গণমানুষের মুষ্টিবদ্ধ হাত একাকার হয়ে যায় সেদিন। ভাষার জন্য প্রথম বলীদান বিশ্ববাসী অবাক বিস্ময়ে লক্ষ্য করে। সেই থেকে শুরু হয়ে যায় বাঙালির শেকল ভাঙার লড়াই। পাকিস্তানিদের সাথে হিসেব-নিকেশের হালখাতার শুরুতেই রক্তের আঁচড় দিয়ে বাঙালি শুরু করে তার অস্তিত্বের লড়াই। পলাশীর আম্রকাননে হারিয়ে যাওয়া সেই সিরাজদ্দৌলা আবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রূপে এ লড়াইয়ে সেনাপতি হিসেবে আবির্ভূত হন। ’৫২ সালে যে আগুন জ্বলেছিল রাজধানী ঢাকা শহরে সে আগুন যেন ক্রমান্বয়ে ছড়িয়ে পড়তে থাকে দেশের আনাচে-কানাচে সবখানে। রবীন্দ্র নাথের গানেরমত ‘যে আগুন জ্বলেছিল মোর প্রাণে, সে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে সবখানে সবখানে।

বাষট্টি, ঊনসত্তর এবং সত্তর শেষ করে একাত্তরে বাঙালি জাতি হিসাব করতে বসে। হিসেব-নিকেশ আর দেনা-পাওনায় পাকিস্তানিরাও বসে নেই। তারাও অংক কষতে থাকে কিভাবে বাঙালি জাতিকে যুগ যুগ ধরে পরাধীনতার শেকল পরিয়ে রাখা যায়। তাদের কাছে এই অলংকারই বাঙালির শ্রেষ্ঠ প্রাপ্য। ঘড়ির কাঁটার টিক টিক শব্দ জানিয়ে যায় সময় আসছে হিসেব নিকেশ চুকিয়ে দেয়ার পালা।
অবশেষে গভীর কালো নিকষ আঁধার থেকে জেগে উঠে হিরন্ময় হাতিয়ার। ৭ মার্চ একাত্তরের বিশাল জনসমুদ্র থেকে এক যুগের কবি, মহাকাব্যের প্রণেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বজ্রকণ্ঠ ঘোষণা দেন ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। রক্ত যখন দিয়েছি তখন আরো দেব, তবুও এদেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ।’

এই একটি মাত্র উচ্চারণে যেন বাঙালি সত্যিকার দিক-নির্দেশনা পেয়ে যায়। চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে থাকে বাঙালি। বাঙালি বুঝে যায় শেষ কামড় দেয়ার সময় আসন্ন। পাকিস্তানিরাও আর বসে নেই। পুরো জাতিকে স্তব্ধ করার লক্ষ্যে মারাত্মক মারণাস্ত্র নিয়ে ২৫ মার্চ একাত্তর ঘুমন্ত জাতির উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। শুরু হয় বাঙালি নিধন যজ্ঞ। বাতাসে লাশের গন্ধ বারুদে বারুদে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন আকাশ। এ যেন এক প্রেতপুরী। আকাশে শকুনের উদ্যত থাবা, নিচে বিপন্ন মানুষের বিলাপ। হায় বাংলাদেশ।একি বাংলাদেশ। এ যেন এক জ্বলন্ত শশ্মান। কিন্তু ঠিকই হাড়ের খুলী একদিন পাললিক হয়।

মুক্তি পাগল বাংলার দামাল ছেলেরা স্বাধীনতার রক্ত সূর্যকে ছিনিয়ে আনবে বলে একদিন অস্ত্র কাঁধে তুলে নেয়। ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক, কামার, কুমার সবাই শরিক হয়ে থাকে এ লড়াইয়ে। যতই দিন অতিবাহিত হতে থাকে আরো শাণিত হয় প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার অস্ত্র। লক্ষ্য স্থির রেখে শত্রু হননে দৃঢ়তায় এগিয়ে যায় বীর বাঙালি। ইতোমধ্যেই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন স্পষ্ট হয়ে উঠে। প্রতিবেশী ভারতও জড়িয়ে পড়ে বাঙালির ভাগ্য যুদ্ধে। ডিসেম্বর শেষ পর্যায়ে এসে চূড়ান্ত রূপ নেয় এই যুদ্ধের।

অবশেষে ন’মাসের দুঃস্বপ্নের অবসান ঘটিয়ে বাঙালি জাতির জীবনে এলো নতুন প্রভাত। এ বিজয়ের মধ্যে এলো হাজার বছরের কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। ১৬ ডিসেম্বর সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সূচিত হলো মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য বিজয়। বাঙালি জাতি এদিন অর্জন করে তার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণের অধিকার। ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত আর লাখ লাখ ধর্ষিতা মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে বিজয়ের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা ধরা দেয় বাঙালির জীবনে।-বাসস

জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া প্রধানমন্ত্রীর পুরো ভাষণ

0

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম। প্রিয় দেশবাসী, আসসালামু আলাইকুম। ইতিহাসের এক বিশেষ সন্ধিক্ষণে আজ আমরা বিজয় দিবস-২০২০ উদযাপন করতে যাচ্ছি। এ বছর আমরা আমাদের মহান নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছি। কয়েকদিন পর আমরা আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে পদার্পন করবো। আমরা স্বল্পোন্নত দেশ হতে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা লাভ করেছি। গোটা জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবিলা করে সমগ্র বিশ্বের বুকে নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছি। প্রমত্তা পদ্মার বুক চিরে নিজেদের অর্থায়নে নির্মাণাধীন পদ্মাসেতু মাত্র সপ্তাহ খানেক আগে দেশের দুই প্রান্তকে সংযুক্ত করেছে। পৃথিবীর বুকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার প্রত্যয় নিয়ে দেশ এবং দেশের বাইরে অবস্থানরত বাংলাদেশের সকল নাগরিককে আমি বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।

আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। যাঁর নেতৃত্বে ২৪ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা পেয়েছি স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা – সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দিন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এএইচএম কামারুজ্জামানকে। শ্রদ্ধা জানাচ্ছি ৩০-লাখ শহিদ এবং ২-লাখ নির্যাতিত মাবোনের প্রতি। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমার সশ্রদ্ধ সালাম। আমি স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট ঘাতকদের হাতে নিহত আমার মা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব, তিনভাই – মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, মুক্তিযোদ্ধা লে. শেখ জামাল এবং ১০ বছরের শেখ রাসেল-সহ ঐ রাতের সকল শহিদকে।

আজকের এই মহান দিনে আমি মুক্তিযুদ্ধে সহায়তাদানকারী বিভিন্ন দেশ ও দেশের জনগণ, ব্যক্তি এবং সংগঠনের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বীর সদস্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ হয়েছেন। তাঁদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি। কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি ভারতের তৎকালীন সরকার, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সর্বোপরি সাধারণ জনগণকে- যাঁরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং নানাভাবে সহযোগিতা করেছিলেন।
করোনাভাইরাস-সহ নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে এ বছর যে সব রাজনীতিক, সংসদ সদস্য, বরেণ্য ব্যক্তিসহ সর্বস্তরের মানুষ মারা গেছেন, আমি তাঁদের স্মরণ করছি। আমি সকলের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
প্রিয় দেশবাসী,

এক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ বছর আমাদের বিজয় দিবস উদ্যাপন করতে হচ্ছে। করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে আমাদের দৈনন্দিন কার্যপ্রণালীতে পরিবর্তন আনতে হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে, জনসমাগম এড়িয়ে আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় কাজকর্ম সম্পন্ন করতে হচ্ছে। প্রতিটি মানুষের জীবনই মহা মূল্যবান। কোন অবহেলায় একজন মানুষেরও মৃত্যু কাম্য নয়। তাই, আমি সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিজয় দিবস উদ্যাপনসহ যাবতীয় কাজকর্ম সম্পন্ন করার অনুরোধ জানাচ্ছি। আপনারা ঘর থেকে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক পরিধান করবেন এবং মাঝেমধ্যে হাত সাবান অথবা স্যানিটাইজার দিয়ে পরিস্কার করবেন। আপনার সুরক্ষা, সকলের জন্য রক্ষাকবচ।

প্রিয় দেশবাসী,

এ বছরটি শুধু আমাদের জন্যই নয়, বিশ্ববাসীর জন্য এক দুর্যোগময় বছর। করোনাভাইরাসের মহামারি স্বাস্থ্য-ব্যবস্থার পাশাপাশি অর্থনীতির উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশ্ব অর্থনীতি এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে। করোনাভাইরাসের মহামারির ফলে অনেক উন্নত এবং উদীয়মান অর্থনীতির দেশ ঋণাত্মক প্রবৃদ্ধির মুখে পড়েছে। বাংলাদেশে আমরা সময়োচিত পদক্ষেপ এবং কর্মসূচি গ্রহণ করে এই নেতিবাচক অভিঘাত কিছুটা হলেও সামাল দিতে সক্ষম হয়েছি। আমরা প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছি যা জিডিপি’র ৪.৩ শতাংশ। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রায় ২.৫ কোটি প্রান্তিক মানুষকে নগদসহ নানা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ধাক্কা সামলিয়ে আমাদের প্রবাসী আয়, কৃষি উৎপাদন এবং রপ্তানি বাণিজ্য ঘুরে দাঁড়িয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৪১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত অর্থবছরে ৫.২৪ শতাংশ হারে আমাদের প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রক্ষেপণ বলছে ২০২০ সালে বাংলাদেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি হবে দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।

আমাদের বৃহৎ প্রকল্পগুলোর কাজ পূর্ণ গতিতে এগিয়ে চলছে। আমাদের স্বপ্নের ও গর্বের পদ্মাসেতুর সবগুলো স্প্যান বসানো শেষ। ঢাকায় মেট্রোরেলের কাজ আবার পুর্ণদ্দোমে শুরু হয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ এই মহামারিতে একদিনের জন্যও বন্ধ হয়নি। কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলির নদীর তলদেশে ট্যানেল নির্মাণের কাজ দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশের মহাসড়কগুলো চার-লেনে উন্নয়নের কাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে।
প্রিয় দেশবাসী,

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের বর্বর বাহিনীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে আমরা ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করি। এরআগে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো জনতার সামনে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা ঘোষণা দিয়েছিলেন: ‘‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” ২৬-এ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা গ্রেফতার করে। তারপর তাঁকে পাকিস্তানে নিয়ে গিয়ে অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করে। প্রহসনের বিচারের মাধ্যমে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানোর ষড়যন্ত্র করে।

কিন্তু এদেশের মানুষ জাতির পিতা ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণের যে দিক-নির্দেশনা দিয়েছিলেন: আমি কোট করছি: ‘‘তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে” – সেই নির্দেশকে শিরোধার্য করে শত্রুর মোকাবিলায় ঝাঁপিয়ে পড়েন।

বিভিন্ন বাহিনীতে কর্মরত অধিকাংশ বাঙালি সদস্য স্বাধীনতার পক্ষে প্রতিরোধ যুদ্ধে সামিল হন। বাংলার কৃষক, বাংলার শ্রমিক, ছাত্র-যুবক, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, পেশাজীবীরা- সেদিন জীবনের মায়া ত্যাগ করে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। দখলদার বাহিনী এবং তাঁদের এদেশীয় দোসর- রাজাকার-আলবদর, আল-শামস বাহিনীর সদস্যরা লক্ষ লক্ষ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে; হাজার হাজার নারীর সম্ভ্রমহানি করে, এক কোটি মানুষকে দেশ ছাড়া করে; আরও ৩ কোটি মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়। পোড়ামাটি নীতি গ্রহণ করে তারা কোটি কোটি বাড়িঘর লুট করে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।

কিন্তু বাঙালি জাতি মাথানত করেনি। অত্যাচার-নিপীড়ন যত বেড়েছে, বাংলার মুক্তিকামী মানুষ ততই মরিয়া হয়ে শত্রু বাহিনীর উপর প্রতি-আক্রমণ শাণিয়েছে। অবশেষে মুক্তিবাহিনী এবং ভারতীয় মিত্রবাহিনীর কাছে দোর্দ- প্রতাপশালী পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। বাঙালি অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয়। বাংলাদেশ হয় শত্রুমুক্ত।

প্রিয় দেশবাসী,

জাতির পিতা যখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে ব্যস্ত, দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন, তখনই পরাজিত শক্তির দোসররা ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে শুধু একজন ব্যক্তি মুজিবের মহাপ্রয়াণ হয়নি। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয়কে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস চালানো হয়। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাঙালি জাতির যে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা সূচিত হয়েছিল, তা স্তব্ধ করে দেওয়া হয়। তাঁকে হত্যার মাধ্যমে একটি আদর্শ ও স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটানো হয়। যে স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়েছিলেন এ দেশের লক্ষ-কোটি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের ভাগ্য। সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন।

জাতির পিতা শুধু একজন খাঁটি মুসলমানই ছিলেন না, তিনি ধর্মীয় আচারাদি নিষ্ঠার সঙ্গে প্রতিপালন করতেন। তাঁর মতো আর কে বাংলার মানুষের মন-মনন-আকাক্সক্ষা বুঝতে পারতো! তাই তিনি যখন সংবিধান রচনা করেন, তখন মানুষের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে বাঙালি জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র – এই চারটি মৌলিক বিষয়কে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করেন।

কিন্তু দুঃখের বিষয় ৭৫-পরবর্তী মুক্তিযুদ্ধের আদর্শবিরোধী সরকারগুলো মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত মূল্যবোধগুলোকে জলাঞ্জলি দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় নিজেদের আসন চিরস্থায়ী করার পদক্ষেপ করে। সামরিক জান্তা সঙ্গীনের খোঁচায় সংবিধানকে ক্ষতবিক্ষত করে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ধারাবাহিক অপপ্রচার চালিয়ে, ইতিহাস বিকৃত করে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কালিমা লেপনের চেষ্টা করে।

ধর্ম নিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী জাতির পিতা ইসলাম ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা এবং প্রসারে যা করেছেন, ইসলামের নামে মুখোশধারী সরকারগুলো তা কখনই করেনি। আইন করে মদ-জুয়া-ঘোড়দৌড় নিষিদ্ধ করা, ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করা, মাদ্রাসা বোর্ড স্থাপন, ওআইসি’র সদস্যপদ অর্জনের মত কাজগুলো বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই বাস্তবায়িত হয়েছিল স্বাধীনতা অর্জনের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে।

মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী-শক্তির মদদদাতা জিয়াউর রহমানের সব ধরনের বাধা উপেক্ষা করে বাংলার মানুষের এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসে আমি দলের দায়িত্ব গ্রহণ করি। পিতার আদর্শকে ধারণ করে বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর ব্রত নিয়ে কাজ শুরু করি।

১৯৭৫-এর বিয়োগান্তক ঘটনার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে এবং ২০০৯ থেকে আজ পর্যন্ত আমাদের সরকার দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নয়ন সাধন করেছে। আমার সরকার ধর্মীয় শিক্ষা প্রচার এবং প্রসারে যত কাজ করেছে, অতীতে কোন সরকারই তা করেনি। আমরা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছি। ৮০টি মডেল মাদ্রাসায় অনার্স কোর্স চালু করা হয়েছে। কওমী মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দিয়েছি এবং দাওয়ারে হাদিস পর্যায়কে মাস্টার্স মান দেওয়া হয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছি। প্রতিটি জেলা-উপজেলায় দৃষ্টিনন্দন মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। ইমাম- মোয়াজ্জিনদের সহায়তার জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করে দিয়েছি। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের আওতায় সারাদেশে মসজিদ-ভিত্তিক পাঠাগার স্থাপন করা হয়েছে। লক্ষাধিক আলেম-ওলামায়ে কেরামের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তথাপি ১৯৭১’র পরাজিত শক্তির একটি অংশ মিথ্যা, বানোয়াট, মনগড়া বক্তব্য দিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিভ্রান্ত করতে ইদানিং মাঠে নেমেছে। সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। জাতির পিতা ১৯৭২ সালে বলেছিলেন ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার না করতে। কিন্তু পরাজিত শক্তির দোসররা দেশকে আবার ৫০ বছর আগের অবস্থায় ফিরে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। রাজনৈতিক মদদে সরকারকে ভ্রুকুটি দেখানোর পর্যন্ত ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে।

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, ধর্মান্ধ নয়। ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার করবেন না। প্রত্যেককে নিজ নিজ ধর্ম পালনের অধিকার রাখেন। বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান – সকল ধর্মের-বর্ণের মানুষের রক্তের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে।

এ বাংলাদেশ লালন শাহ, রবীন্দ্রনাথ, কাজী নজরুল, জীবনানন্দের বাংলাদেশ। এ বাংলাদেশ শাহজালাল, শাহ পরান, শাহ মকদুম, খানজাহান আলীর বাংলাদেশ। এই বাংলাদেশ শেখ মুজিবের বাংলাদেশ; সাড়ে ষোল কোটি বাঙালির বাংলাদেশ। এ দেশ সকলের। এ দেশে ধর্মের নামে আমরা কোন ধরনের বিভেদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে আমরা দিব না। ধর্মীয় মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে এ দেশের মানুষ প্রগতি, অগ্রগতি এবং উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবেন।
প্রিয় দেশবাসী,

চলতি বছর আমরা জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা উদ্যাপন করছি। যদিও করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের কর্মসূচিতে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়েছে। আগামি বছর আমাদের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি। করেনাভাইরাসের এই মহামারি না থাকলে আমরা যথাযথ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উদযাপন করবো, ইনশাআল্লাহ। একইসঙ্গে চলবে জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানমালা।

বঙ্গবন্ধু বলতেন ভিক্ষুক জাতিকে কেউ সম্মান করে না। আমরা বাংলাদেশের সেই দুর্নাম ঘুচিয়েছি। আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ আজ একটি সমীহের নাম। আজকের বাংলাদেশ আর অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর বাংলাদেশ নয়। আজকের বাংলাদেশ স্বাবলম্বী বাংলাদেশ। একটা সময় ছিল আমাদের উন্নয়ন বাজেটের সিংহভাগ আসতো বিদেশি অনুদান থেকে। আজ বাজেটের ৯৭ ভাগ মেটানো হয় নিজস্ব অর্থায়নে। বাংলাদেশ কারও দয়া বা করুণার উপর নির্ভরশীল নয়।

আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সামিল হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছি। জাতির পিতার স্বপ্ন ছিল ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার। আমরা তাঁর স্বপ্ন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা আমাদের অব্যাহত রাখতে হবে। তবেই ২০৪১ সালের মধ্যে আমাদের উন্নত, সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হবে।

প্রিয় দেশবাসী,

বিজয় দিবসের প্রাক্কালে তাই আসুন, আবারও আমরা শপথ নেই – আমরা যেন লাখো শহিদের রক্তের ঋণ ভুলে না যাই। আমরা যেন মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ভূলুণ্ঠিত হতে না দেই। যুবশক্তি, তরুণ সমাজ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে অনুরোধ, তোমরা তোমাদের পূর্বসূরীদের আত্মোৎসর্গের কথা কখনই ভুলে যেও না। তাঁদের উপহার দেওয়া লাল-সবুজ পতাকার অসম্মান হতে দিও না।

যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে তোমরা তোমাদের পূর্বপুরুষদের বিজয়-নিশান সমুন্নত রাখার শপথ নাও এই বিজয় দিবসে। প্রতিজ্ঞা কর, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে এদেশকে সোনার বাংলাদেশে পরিণত করবে। তবেই ৩০ লাখ শহিদের আত্মা শান্তি পাবে। জাতির পিতার স্বপ্ন পূরণ হবে।

বিদ্রোহী কবি, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে চাই:
চাহি না জানিতে – বাঁচিবে অথবা
মরিবে তুমি এ পথে,
এ পতাকা বয়ে চলিতে হইবে
বিপুল ভবিষ্যতে।

সবাইকে আবারও মহান বিজয় দিবসের বর্ণিল শুভেচ্ছা। সবাই ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।

খোদা হাফেজ।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

বিএনপির নেতা-কর্মীরা পদ্মা সেতুতে উঠবেন না: শাজাহান খান

0

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান শাজাহান খান এমপি বলেছেন, বাংলাদেশে আমরা আমাদের নিজেদের অর্থে পদ্মা সেতু তৈরি করছি। এই পদ্মা সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে বিএনপির ষড়যন্ত্র-চক্রান্ত করেছিল। তাদের সেই ষড়যন্ত্র-চক্রান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শেখ হাসিনা আজ পদ্মা সেতু করেছেন। আগামী বছরের মধ্যে আমরা পদ্মা সেতু পার হবো। তবে আমি বিএনপির নেতা-কর্মীদের আহ্বান জানাবো, তাদের নেত্রীর ওপর বিশ্বাস রেখে তারা যেন এই সেতু পার না হয়।

এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘‘আপনি খালেদা জিয়া বলেছিলেন, এই পদ্মা সেতু আমরা করতে পারবো না। আরও হাস্যকরভাবে দেশের জনগণের উদ্দেশে বলেছিলেন,‘পদ্মা সেতু জোড়াতালি দিয়ে হচ্ছে। এই সেতু পার হবেন না, ভেঙে পড়বে।’ আপনি খালেদা জিয়া আরও কিছু দিন বেঁচে থাকুন। এরপর আপনি যেদিন পার হবেন, আমরা সেদিন জিজ্ঞাসা করবো, আপনি আপনার ওয়াদা রক্ষা করছেন না কেন?’’

তিনি বলেন, সেদিন দেশবাসী বিএনপির নেত্রীর কথা বিশ্বাস করেননি। কারণ পদ্মা সেতু আজ বাস্তব। এ মাসেই পুরো সেতু দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। তাই এখন বিএনপির নেতা-কর্মীরা পারলে তাদের নেত্রীর কথা রক্ষা করুন। আপনারা এই সেতুতে উঠবেন না।

মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস উপলক্ষে শহরের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান।

তিনি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বাংলাদেশেও অনেক ভাস্কর্য আছে। আজকে আলেমরা ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করছেন। তাদের কাছে আমাদের প্রশ্ন, চট্টগ্রামে জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য আছে। ঢাকায় ২৯ নং মিন্টু রোডে খালেদা জিয়া যখন সেখানে ছিলেন সেই বাড়িতে জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য আছে। তখন কেউ জিহাদ ঘোষণা করলেন না কেন? অথচ বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য যখন স্থাপনের ঘোষণা দেওয়া হয় তখন তার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করছেন আপনারা! আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছি। আমি আলেমদের কাছে জানতে চাই তারা যে ওয়াজ করেন তখন কি কখনও বলছেন যে, ১৯৭১ সালে জামায়াতে ইসলাম পাকিস্তান বাহিনীর সঙ্গে মিলে ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করেছিল? আমরা জানি, এই কথা কোনও আলেম বলেন নাই, প্রতিবাদও করেন নাই।’

এসময় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য আছে ও থাকবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

সমাবেশে উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি’র বক্তব্যে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য র.আ.ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন,‘আজকে আলেমরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কথা বলছেন, সকল প্রকার ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। এই ভাস্কর্য হচ্ছে বাঙালি বা পুরো বিশ্বের সংস্কৃতির অঙ্গ। এটাকে যদি ধ্বংস করা যায় তাহলে মানব ইতিহাসে উন্নয়নের ধারাবাহিকতাকে ধ্বংস করা যাবে। সেই চেষ্টায় লিপ্ত হয়ে মনগড়া ইসলামকে দিয়ে তারা এটাকে সামনে নিয়ে আসে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ। সমাবেশে জেলা সদর ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

এসময় জয় বাংলা স্লোগানে সভাস্থল মুখরিত করে তোলেন উপস্থিত মুক্তিযোদ্ধারা।

আখাউড়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

0

আখাউড়ায় বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার সকালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাংচুর, জঙ্গিবাদ, মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে আখাউড়া উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠন এ বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভার আয়োজন করে।

বাংলাদেশ আওয়ামী -এর কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে উপজেলা আওয়ামীলীগের দলীয় কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়ে পৌরশহরের সড়ক বাজার, রাধানগ, লাল বাজার হয়ে সড়ক বাজার অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক পৌর মুক্তমঞ্চে এসে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ভুঁইয়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক পৌর মেয়র মোঃতাকজিল খলিফা কাজল-এর নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিল শেষে পথ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ জয়নাল আবেদীন যুগ্ম-আহবায়ক মনির হোসেন বাবুলের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-আহবায়ক সেলিম ভুঁইয়া, যুবলীগের আহ্বায়ক পৌর মেয়র মোঃতাকজিল খলিফা কাজল, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম-আহবায়ক জেলা পরিষদের সদস্য এ কে এম আতাউর রহমান নাজিম, যুব লীগের যুগ্ম-আহবায়ক আব্দুল মোমিন বাবুল, উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি শাহাব উদ্দীন বেগ শাপলু উপজেলা সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ-সম্পাদক শাহ-আলম প্রমুখ।

কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটিকে দত্তক নিয়েছে এক নিঃসন্তান শিক্ষক দম্পত্তি

0

জায়েদুর রহমান,টপ টাইমস ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

গত ২৯ নভেম্বর আখাউড়া-সুলতানপুর মহাসড়কে কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি আদালতের নির্দেশে নিঃসন্তান শিক্ষক দম্পত্তিকে দত্তক দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা বাসুদেব ইউনিয়নের আখাউড়া-সুলতানপুর মহাসড়কের দুবলা গ্রাম থেকে কুড়িয়ে পাওয়া ৬ মাস বয়সী শিশুটিকে আদালতের সিদ্ধান্ত মোতাবেক এক নিঃসন্তান শিক্ষক দম্পত্তিকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

তথ্যসূত্রে জানা যায় ৫ লক্ষ টাকার বন্ডে স্বাহ্মর করে দুবলা গ্রামের শিক্ষক দম্পত্তি দত্তক হিসেবে বুঝে নেন শিশু বাচ্চাটিকে। তবে এখনও শিশুটির প্রকৃত বাবা -মায়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। শর্ত মোতাবেক, র্শিশুটির বাবা মায়ের সন্ধান পাওয়া গেলে শিশুটিকে ফিরিয়ে দিতে হবে তার বাবা মায়ের কাছে এই শর্ত জুড়ে দেন আদালত। এর কয়েকদিন আগে দুবলা এলাকায় মহাসড়কের পাশে কলা গাছের ঝোপ থেকে শিশুটিকে কু্ড়িয়ে পান দুবলা গ্রামের জহিরুল ইসলাম। পরে প্রশাসনের মাধ্যমে শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করেন জহিরের স্ত্রী পারভীন বেগম।

আদালতের প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে নিঃসন্তান শিক্ষক দম্পত্তি জানান, আমরা খুব আনন্দিত শিশুটিকে দত্তক হিসেবে পেয়ে। শিক্ষক দম্পত্তি মহান আল্লার নিকট শুকরিয়া আদায় করে সবশেষে সকলের কাছে দুয়া চেয়ে বলেন, আমরা যেন দত্তক নেওয়া শিশু সন্তানের দায়িত্ব পারন করতে পারি।

আখাউড়ায় অটোরিকশার ভাড়ার দ্বন্ধে বয়োবৃদ্ধকে হত্যার অভিযোগ

0
Attachments

জায়েদুর রহমান, টপ টাইমস ব্রাহ্মণবাড়ীয়া।

আখাউড়ায় অটোরিকশার ভাড়ার দ্বন্ধে বয়োবৃদ্ধ কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। অটোরিকশা ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়ায় প্রতিপক্ষ আতিকুর ভূঁইয়ার ধাক্কায় হৃদরোগে আক্রান্ত জামাল ভূঁইয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন বলে দাবি করছেন তার স্বজনরা। নিহত জামাল ভূইয়া মোগড়া ইউপি’র নিলাখাদ গ্রামের মৃত আফিল উদ্দিন ভূইয়ার পুত্র। গত(১১ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০ টায় অত্র ইউপি’র নিলাখাদ পূর্ব পাড়া ব্রিজের উপর এ ঘটনা ঘটে। জামাল ভূইয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৬ নভেম্বর মারা যান।

বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার আশায় এতদিন হত্যার অভিযোগ আনা হয়নি। নিহত বৃদ্ধের ছেলে মো: মঈন উদ্দিন ভূঁইয়া সাংবাদিকদের জানান, আমি একজন অটো রিকশা চালক। আমার অটোরিকশা দিয়ে চলাচল করত আওলাদ হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে আতিকুর ভূঁইয়া। বেশ কিছু দিন ভাড়া না পেয়ে তার কাছে টাকা দাবি করায় সে লাঠি দিয়ে আমাকে মারধর করে। এমতাবস্থায়, আমার হৃদরোগে আক্রান্ত বাবা জামাল ভূঁইয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তাকে ঘুষি মেরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় আতিকুর। এর পর আমার বাবার পরিস্থিতি খারাপ দেখে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করি।

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক দ্রূত সেখান থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন।
সদর হাসপাতালে দুইদিন চিকিৎসা করার পর অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা সোহরওয়ার্দী হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরিশেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার বাবা মৃত্যু বরন করেন। এ ঘটনার সু্ষ্ঠ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান তিনি।


এ বিষয়ে যোগাযোগ করতে আতিকুর ভূঁইয়াকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। আতিকুরের স্ত্রী জানান, তার সাথে কারো কোন যোগাযোগ নেই।‌ তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।এ সময় তার স্ত্রী দাবি করেন জামাল ভূঁইয়া একজন ভালো মানুষ তার সাথে আমার স্বামীর কোনো বিরোধ নেই, তাকে ধাক্কা এবং ঘুসি দেওয়ার বিষয়টিও মিথ্যা। তিনি ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে রাস্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েন তবে, তার ছেলের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে সত্যি‌।

আখাউড়া থানার ওসি তদন্ত মাসুদ উল আলম জানান, কয়েকদিন আগে মারামারি হয়েছিল এবং এ বিষয়ে একটি মামলা ও হয়েছে। তবে নতুন করে কোনো মামলা করা হয়নি। আসামিরা এখন জামিনে রয়েছেন। জামাল ভূইয়া মৃত্যুর পর তার ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তদন্তের রিপোর্ট আঘাত জনিত হলে কোর্ট কে জানানো হবে এবং পরবর্তী ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।

আখাউড়া-সুলতানপুর সড়কের পাশে মিললো ৬ মাস বয়সী অজ্ঞাতনামা দুধের শিশু

0

জায়েদুর রহমান, টপ টাইমস ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

আখাউড়া – সুলতানপুর সড়কের পাশে মিললো ৬ মাস বয়সী অজ্ঞাতনামা দূধের শিশু

অজ্ঞাতনাম এই শিশুটির পরিবারের সন্ধান চাই।
আজ সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের দুবলা গ্রামে (সুলতানপুর-আগরতলা হাইওয়ে রাস্তার পাশে) অজ্ঞাত এই ছেলে শিশুটিকে কে বা কাহারা রেখে যায়।
দুবলা গ্রামের এক পথচারি রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় একটি শিশু বাচ্চাঁর কান্নার আওয়াজ শুনে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয় এবং উদ্ধারকারীর হেফাজতেই তার বাড়িতে রাখা হয়।
বিষয়টি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় অবগত করানো হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় অবগত করে উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে বাচ্চাঁটিকে নিয়ে যেতে পারবেন বলে তথ‍্যঁসূত্রে জানা যায়।
ঠিকানাঃ দুবলা,বাসুদেব,ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর।

কলেজপাড়ায় নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু, আহত এক

0

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নির্মাণাধীন তিনতলা ভবন থেকে পড়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা শহরের কলেজপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত মাইনুদ্দিন পৌর এলাকা ভাদুঘরের জালু মিয়ার ছেলে। এই ঘটনায় হৃদয় (১৭) নামের আরও এক শ্রমিক বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছে।

মাইনুদ্দিনের ভাই মাসুম মিয়া জানান, জেলা শহরের কলেজপাড়ায় নির্মাণাধীন একটি তিনতলা ভবনের ছাদের ঢালাই দিতে মাইনুদ্দিন সহ শ্রমিকরা কাজ করছিলেন।বৃহস্পতিবার দুপুরের ছাদের রড বিছানোর সময় পাশের বিদ্যুতের খুঁটিতে স্পৃষ্ট হয়। এসময় রড হাতে থাকা মাইনুদ্দিন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তিনতলা থেকে নিচে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। তার সাথে থাকা হৃদয় আহত হয়। পরে হতাহতদের জেলা সদর হাসপাতালে অন্যান্য শ্রমিকরা নিয়ে আসে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম জানান, খবর পেয়ে হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ দিলে আইননুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আখাউড়ায় প্রকাশ্যে দিনে দুপুরে নারীর স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ছিনতাই

0

আখাউড়ায় রুমা আক্তার (৩৫) নামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর কাছ থেকে দিনে দুপুরে সোনার হার, কানের দুল ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে গেছে ছিনতাইকারী চক্র। আজ মঙ্গলবার দুপুরে আখাউড়া পৌরশহরের সড়কবাজারে এ ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।ছিনতাইয়ের শিকার ওই নারী উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সৌদিআরব প্রবাসী ইউসুফ মোল্লার স্ত্রী।জানাগেছে, ওই নারী মার্কেটে কেনাকাটা শেষে মিষ্টি কিনার জন্য দোকানে যাচ্ছিলেন।

এসময় পৌরশহরের পোষ্ট অফিসের সামনে পৌছলে দুজন অপরিচিত লোক তাকে প্রলোভন দেখিয়ে কৃষি ব্যাংকের গলিতে নিয়ে তার হাতে একটি ব্যাগ দিয়ে রাখতে বলে। এ সময় রুমাকে তার গলার থাকা স্বর্ণের দেড় ভরি ওজনের হার, কানের দুল ও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নিয়ে চক্রটি কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে মহিলা ছিনতাই কারী বলতে বলতে কান্নায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। জ্ঞান ফিরলে রুমা জানান, তাদের দেখলে সে চিনতে পারবেন।এ বিষয়ে আখাউড়া থানার ওসি রসুল আহম্মদ নিজামী জানান, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ছিনতাইয়ের কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন বলে তিনি জানিয়েছেন।